
মো: জুয়েল মাস্টার,ভোলা প্রতিনিধি।
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় এক নির্মম ও লোমহর্ষক অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয় থেকে দুপুরে টিফিন খেতে বাড়ি ফেরার পথে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীকে (১১) জোরপূর্বক অপহরণ, ধর্ষণ এবং সেই দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও ধারণ করার অভিযোগ উঠেছে।
এই চাঞ্চল্যকর ও পাশবিক অমানবিক ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তিন দুষ্কৃতকারীকে গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনার পর থেকে পুরো বোরহানউদ্দিন এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় মানুষজন অপরাধীদের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফুঁসে উঠেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা, ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায় যে,বোরহানউদ্দিন উপজেলার একটি স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ওই ছাত্রী প্রতিদিনের মতোই বিদ্যালয়ে ক্লাস করতে গিয়েছিল। দুপুরের দিকে স্কুলের বিরতি (টিফিন টাইম) হলে সে দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য পায়ে হেঁটে নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয় কিন্তু পথিমধ্যে ওঁত পেতে থাকা স্থানীয় কয়েকজন বখাটে ও দুষ্কৃতকারীরা তার গতি রোধ করে।কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুষ্কৃতকারীরা শিশুটির মুখ চেপে ধরে, যাতে সে চিৎকার করে আশেপাশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে না পারে। এরপর তাকে টেনে-হিঁচড়ে রাস্তার পাশের একটি নির্জন কলা বাগানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবুঝ শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণ চালানো হয়।এখানেই শেষ নয়, অপরাধীরা তাদের এই জঘন্যতম অপরাধের দৃশ্য মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুটিকে রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রেখে ধর্ষকরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে শিশুটি কোনোমতে কান্নাকাটি করতে করতে বাড়িতে ফিরে এসে পরিবারের সদস্যদের কাছে এই পৈশাচিক ঘটনার বিবরণ দেয়। ঘটনা শোনার পর পরই পরিবারের পক্ষ থেকে বোরহানউদ্দিন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সাথে মাঠে নামে। পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন এলাকায় ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত তিন আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
তবে তদন্তের স্বার্থে এবং আইনি প্রক্রিয়ার কারণে গ্রেফতারকৃতদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে সম্পূর্ণ প্রকাশ করা হয়নি।
এই অমানবিক ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে পুরো উপজেলায় হতাশা ও তীব্র নিন্দার ঝড় বইছে। এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দিনের আলোতে, স্কুল ছুটির পর একটা শিশু যদি নিরাপদ না থাকে, তবে আমাদের সন্তানরা কোথায় যাবে?" সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ অবিলম্বে এই মামলার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে শুনানির মাধ্যমে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী শিশুটির শারীরিক পরীক্ষার জন্য তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একই সাথে গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই জঘন্য অপরাধের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
<span;>